২৫ জানুয়ারি ২০১৩ - ১৯:৪৬

রাশিয়া এমন একটি দেশ যেখানে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা বসবাস করে। এদেশে বর্তমানে ২ কোটি ৩০ লাখ মুসলমান বসবাস করছে। সংখ্যার দিক থেকে বিপুল হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি ক্রয় করার অনুমোদন সহজে দেওয়া হয় না।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : রাশিয়ার ফতওয়া পরিষদের উপপ্রধান বলেছেন, এদেশের সংবিধান সকল মুসলমান ও অন্যান্য সকল ধর্মের অনুসারীদেরকে সমঅধিকার দেয় এবং তাদের ধর্মীয় কর্মসূচী পালনে স্বাধীনতা প্রদান করে।

রোশান আবাসোভ বলেন : যদিও ১৯৯৪ সালে সকল উপাসনালয়, গীর্জা এবং মসজিদসমূহ ভেঙ্গে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বর্তমান সংবিধান তাদের সকল অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে।

তিনি বলেন : রাশিয়া এমন একটি দেশ যেখানে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা বসবাস করে। এদেশে বর্তমানে ২ কোটি ৩০ লাখ মুসলমান বসবাস করছে। সংখ্যার দিক থেকে বিপুল হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি ক্রয় করার অনুমোদন সহজে দেওয়া হয় না।

ইসলামভীতির –যা বিদেশীদের অপপ্রচারের ফলে রাশিয়ার অমুসলিমদের অন্তরে দানা বেঁধেছে- কারণে এমন ঘটনা ঘটছে –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : পশ্চিমা বিশ্বসহ অমুসলিম সমাজে ইসলামভীতি বৃদ্ধি পাওয়ার সর্ববৃহত কারণ হচ্ছে ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনা।

তিনি আরো বলেন : এহেন পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় হচ্ছে অন্যান্যদের নিকট এ বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া যে, ইসলাম ধর্ম সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না। এর পাশাপাশি ইসলাম ধর্ম ও অন্যান্য ধর্মের বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্ব যে অপপ্রচার করে সেগুলো পর্যালোচনা করা।

রোশান আবাসোভ বলেন : ১৯৯১ সালের পূর্ব পর্যন্ত রাশিয়ায় ১৫ হাজারেরও অধিক মসজিদ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশে মাত্র ১০০টি মসজিদ অবশিষ্ট রয়েছে। পূর্বের ঐ মসজিদগুলোর অধিকাংশ বিভিন্ন পরিত্যাক্ত স্টোর রুমে রূপান্তরিত হয়েছে বা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন : এতদসত্ত্বেও প্রায় ২ দশকে আমরা ৭ সহস্রাধিক মসজিদ নির্মাণ ও সংস্কার করেছি। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় মসজিদটি হল ‘মস্কো মসজিদ’। বর্তমানে মসজিদটির সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলছে। এতে একত্রে ১০ সহস্রাধিক মুসুল্লি নামায আদায় করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে এ মসজিদটি হবে ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ।

রাশিয়ার প্রতিটি রাজ্যের জন্য আলাদা আলাদ মুফতি রয়েছে –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : রাশিয়ার ফতওয়া পরিষদ ইসলামি চিন্তাধারাকে মানুষের দ্বৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে, এর পাশাপাশি আসমানী এ ধর্মের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যাবলী বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়া সমাজে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টায় সকলকে অংশগ্রহণ করতে হবে।

রাশিয়ায় ইসলামভীতি প্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন : যখন কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটে এবং তার এক পক্ষে মুসলমানরা থাকে তখন রাশিয়ার গণমাধ্যমসমূহ সেগুলোকে প্রচার করে। কিন্তু যখন মুসলমানদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে প্রচারের জন্য বলা হয় তখন তারা তা করে না এবং আমাদের দাবীর প্রতি কোনরূপ ভ্রুক্ষেপ করে না।

এ কারণেই ইন্টারনেট ব্যবহার, প্রদর্শনী ও সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের কর্মকতত্পরতার খবরাখবর প্রচার, সন্ত্রাসী হামলাসমূহের নিন্দা জানানোর –যার মাধ্যমে ইসলামভীতি এদেশে ছড়িয়ে পড়ছে- এবং ইসলামের প্রকৃত রূপকে সকলের সম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।#